‘যে আমাকে প্রেম শেখালো’ কবিতাটি আত্মত্যাগ এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক অনন্য দলিল। এ কবিতায় প্রেমিকের হাহাকার আছে, কিন্তু তাতে কোনো অভিশাপ নেই; বরং আছে প্রিয়তমার জন্য নিরন্তর শুভকামনা।
“যে আমাকে দুঃখ দিলো, সে যেন আজ সবার চেয়ে, সুখেই থাকে”। কবিতা পিপাসুরা পড়তে পারেন বিরহের এই কবিতাখানি।
কবিতা
যে আমাকে প্রেম শেখালো
জোৎস্না রাতে ফুলের বনে
সে যেন আজ সুখেই থাকে
সে যেন আজ রানীর মত
ব্যক্তিগত রাজ্যপাটে
পা ছড়িয়ে সবার কাছে
বসতে পারে
বলতে পারে মনের কথা
চোখের তারায়
হাত ইশারায়
ঐ যে দেখ দুঃখি প্রেমিক
যাচ্ছে পুড়ে রোদের ভিতর
ভিক্ষে দিলে ভিক্ষে নেবে
ছিন্ন বাসে শীর্ন দেহে
যাচ্ছে পুড়ে রোদের ভিতর
কিন্তু শোন প্রজাবৃন্দ
দুঃসময়ে সেই তো ছিলো
বুকের কাছে হৃদয় মাঝে
আজকে তারে দেখলে শুধু
ইচ্ছে করে
চোখের পাতায় অধর রাখি
যে আমাকে প্রেম শেখালো
প্রেম শিখিয়ে চিনিয়েছিলো
দুষ্টু গ্রহ অরুন্ধতী
বৃষ্টি ভেজা চতুর্দশী
জোৎস্না রাতের উজ্জ্বলতা
ভোরের বকুল শুভ্র মালা
নগর নাগর ভদ্র ইতর
রাজার বাড়ি
সেই তো আবার বুঝিয়েছিলো
যাওগো চলে আমায় ছেড়ে
যে আমাকে প্রেম শেখালো
জোৎস্না রাতে ফুলের বনে
সে যেন আজ সুখেই থাকে
নিজের দেহে আগুন জ্বেলে
ভেবেছিলাম
নিখাদ সোনা হবোই আমি
শীত বিকেলের টুকরো স্মৃতি
রাখবো ধরে সবার মত
হৃদয় বীণার মোহন তারে
ভুলেই গেলাম
যখন তুমি আমায় ডেকে
বললে শুধু
পথের এখন অনেক বাকি
যাও গো শোভন
যাও গো চলে বহুদুরে
কণ্ঠে আমার অনেক তৃষা
যাও গো চলে আপন পথে
এই না বলেই
হাসলে শুধু করুন ঠোঁটে
বাজলো দুরে শঙ্খ নিনাদ
কাঁদলো আমার বুকের পাথর
কাঁদলো দুরে হাজার তারা
একলা থাকার গভীর রাতে
একলা জাগার তিন প্রহরে
তাইতো বলি সবার কাছে
যে আমাকে দুঃখ দিলো
সে যেন আজ সবার চেয়ে
সুখেই থাকে
যে আমাকে প্রেম শেখালো
প্রেম শিখিয়ে বুকের মাঝে
অনল দিলো
সে যেন আজ সবার চেয়ে
সুখেই থাকে
সুখেই থাকে
সেই কবে থেকে – হুমায়ুন আজাদ
(মাকিদ হায়দার ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯৪৭ সালে পাবনার দোহারপাড়ার ‘হায়দার পরিবারে’ জন্মেছিলেন তিনি। তাঁর ভাইদের মধ্যে রশীদ হায়দার, জিয়া হায়দার ও দাউদ হায়দারের মতো দিকপাল সাহিত্যিকরা রয়েছেন। ১৯৭৬ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রোদে ভিজে বাড়ি ফেরা’ প্রকাশের পর থেকেই তিনি পাঠক মহলে সমাদৃত হন।)
