বরিশাল উদয়ন স্কুলে আমার প্রিয় ম্যাম

প্রিয় ম্যাম
উদয়ন স্কুলে প্রিয় ম্যাম তামান্না তানিয়ার সঙ্গে ঋষভ অর্ঘ্য রায়

—ঋষভ অর্ঘ্য রায়

২০২৩ সালের জুলাই মাসে আমি বরিশাল উদয়ন স্কুলের (চৌমাথা শাখায়) তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলাম। কারণ আমার বাবার চাকরির কারণে ঢাকা থেকে আমরা সবাই বরিশালে এসেছিলাম তখন। তাই উদয়ন স্কুলের নিয়ম-কানুন ও বিভিন্ন বিষয়ে তখন আমি কিছুই জানতাম না। কিন্তু এ স্কুলে ভালো একজন ম্যাম ছিলেন। সেই ম্যামের নাম তামান্না তানিয়া।
এ স্কুলে তিনি আমার ক্লাস টিচার ছিলেন। ম্যাম সব সময় আমাকে সবকিছুতে সহযোগিতা করে আসছেন। স্কুলের নিয়ম-কানুন ও বিভিন্ন বিষয় আমাকে সহজে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।

প্রিয় শিক্ষকের কাছে ছাত্রের বিদায়ী চিঠি
প্রিয় শিক্ষিকার কাছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রের বিদায়ী চিঠি

আমি যখন এ স্কুলে প্রথম গিয়েছি, তখন ম্যাম আমাকে খুব আদর করে নিজে ক্লাসরুমে নিয়ে বসতে দিয়েছিলেন। একদিন স্কুলে যেতে দেরি হওয়ার পরও তিনি আমাকে পেছনে না পাঠিয়ে সামনেই বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
তামান্না ম্যাম আমাকে অনেক আদর ও স্নেহ করেছেন। যা কখনো ভোলার নয়।

তৃতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা দিয়ে থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার সময় আমার মা আমার রেজাল্ট নিয়ে খুব টেনশনে ছিলেন। আকারণ আমার দুষ্টুমি একটু বেশি করি। পরীক্ষার পর তামান্না ম্যাম আমার মাকে বলেছিলেন- ‘তোমার ছেলে দুষ্টু, কিন্তু অনেক ব্রিলিয়ান্ট। ’ ম্যাম আমার মাকেও খুব কাছের মনে করতেন। তাই তিনি মাকে তুমি বলে সম্বোধন করতেন।

ম্যাম আমার অনেক দুষ্টুমি সহ্য করেছেন। এজন্য তিনি বকা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তা খুব আদরের মতো। এভাবে ম্যামকে আমি আমার মনের মধ্যে ধারণ করেছি। তিনি শিক্ষক হয়েও আমার কাছে বন্ধুর মতো হয়ে উঠেছিলেন। ম্যাম একদিন আমাকে আমলকিও খেতে দিয়েছিলেন। আর ম্যাম আমাকে এতই স্নেহ করতেন যে, আমি কিছু ক্লাসে খাবার নিয়ে গেলে দুষ্টুমি করে আমার খাবার থেকে সামান্য একটু ভেঙে নিয়ে খেতেন। আমার খুব ভালো লাগত। প্রথম দিকে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও মা আমাকে বুঝিয়ে বলেছিলেন, ম্যাম তোমাকে ভালোবাসে বলেই এমনটা করে।

ম্যাম সব সময় চাইতেন, আমি কীভাবে ভালো রেজাল্ট করতে পারি। এছাড়া আমার পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস টিচার মিনু ম্যামও আমাকে শাসনের মধ্যে অনেক স্নেহ করেছেন। তাদের কারণে আমি পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় সম্মানসূচক নম্বর পেয়েছি।

কিন্তু দু:খের বিষয় হচ্ছে, আমার এই প্রিয় বিদ্যালয় ও শিক্ষকদেরকে ছেড়ে যেতে হচ্ছে। কারণ বাবার চাকরির কারণে আমরা আবার ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি জানুয়ারির শেষ দিকে।

আমার এই প্রিয় ম্যামদের সঙ্গে আবার কবে দেখা হবে, জানি না। এ জীবনে আর দেখা হবে কি না, তাও জানি না। তবে তাদের স্নেহ ও স্নেহমাখা শাসন আমি কখনো ভুলবো না। আপনাদের আদর শাসনের কারণেই আমি এটুকু মানুষ হয়েছি। আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন ম্যাম। আপনারাও অনেক ভালো থাকবেন প্রিয় ম্যাম। আমার প্রিয় উদয়ন স্কুল!!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top