একটি পতাকা পেলে-কবি হেলাল হাফিজ

কবিতা- একটি পতাকা পেলে
কবি হেলাল হাফিজ

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
আমি আর লিখবো না বেদনার অঙ্কুরিত কষ্টের কবিতা
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
ভজন গায়িকা সেই সন্ন্যাসিনী সবিতা মিস্ট্রেস
ব্যর্থ চল্লিশে বসে বলবেন,–‘পেয়েছি, পেয়েছি’।
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
পাতা কুড়োনির মেয়ে শীতের সকালে
ওম নেবে জাতীয় সংগীত শুনে পাতার মর্মরে।
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
ভূমিহীন মনুমিয়া গাইবে তৃপ্তির গান জ্যৈষ্ঠে-বোশেখে,
বাঁচবে যুদ্ধের শিশু সসম্মানে সাদা দুধে-ভাতে।
কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
আমাদের সব দুঃখ জমা দেবো যৌথ-খামারে,
সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক চাষাবাদে সমান সুখের ভাগ
সকলেই নিয়ে যাবো নিজের সংসারে।

কবির অন্য কবিতা- নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়-হেলাল হাফিজ

কবি হেলাল হাফিজ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম একজন নক্ষত্র। তাঁর রচিত অসংখ্য কবিতা আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। নির্মোহ ও নির্লোভ মানুষটি যুবক বয়সে ভালোবেসেছিলেন এক তরুণীকে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে ঘরবাঁধা আর হয়নি। তাতে কী! তিনি তো কবি। তাই নিজে অকৃতদার থেকে কবিতার খাতায় সারাজীবন কবি হেলাল হাফিজ লিখে গেছেন অসংখ্য প্রেমের উপখ্যান।

কবি হেলাল হাফিজের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার বড়তলী গ্রামে। কবির ছেলেবেলা কেটেছে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়ায়।

১৯৬৭ সালে নেত্রকোনা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ভর্তি হয়েছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই যে রাজধানীবাসী এসে থিতু হয়েছিলেন, আর কখনো ফেরেননি নিজ এলাকায়।

কিশোর বয়সে নেত্রকোনারই এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমে মজেছিলেন কবি হেলাল হাফিজ। কিন্তু তিনি তখন  সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ওই সময়ে তো তাঁর পক্ষে প্রেমিকাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করা কঠিন ছিল। তাই অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায় মেয়েটির। এ কারণে জীবনে আর বিয়ে করা হয়নি কবি হেলাল হাফিজের। অনেকটা এসব কারণেও জন্মভূমি নেত্রকোনার প্রতিও ছিল তার এক অদৃশ্য অভিমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top