
বিপ্লব রায়।।
ডাকসুর নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতে যাওয়ার পর নানান বিশ্লেষণ এখন পত্র-পত্রিকায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ছাত্রদল ঘুণাক্ষরেও বোঝেনি, ভোটে এভাবে তাদের ভরাডুবি হবে। কিন্তু ভরাডুবি নয়, ডুবে একেবারে তলিয়েই গেল। কিন্তু কেমন এমন হলো?
বাংলাদেেশের বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ–বিএনপির মতো কোন দল সরকার ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষকে আর পাত্তা দেয় না। কারণ এই ক্ষমতা শব্দটি এতটাই ভয়ংকর, যা- যে কাউকে দানব বানিয়ে দেয়। মনে হয়-আমি ক্ষমতাবান ! আমার দল ক্ষমতায়। তাইতো জনগণের মতামতকে পাত্তা না দিয়ে মন্ত্রী-এমপিরা সরকারি টাকায় বিলাসবহুল করমুক্ত গাড়ি কেনে, ছাগল পালন শিখতে বিদেশ যান, দল বেঁধে সরকারি টাকায় বিদেশ যান। অন্যদিকে দেশের বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়ে। চাকরির ভয়াবহ সংকট। ঘুস-দুর্নীতি, দখল বাণিজ্য আরো কতকি যে চলে। ইচ্ছে হলেই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে। বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা হামলা গ্রেপ্তার তো পান্তাভাত।
আরো পড়তে পারেন- ইব্রাহিম ত্রাওরে: তরুণ বয়সে যেভাবে বিশ্বনন্দিত নেতা
আর দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এ ধরনের দুর্নীতি-অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ ধীরে ধীরে ক্ষুব্ধ হয়। আর এই ক্ষোভের যখন বহি:প্রকাশ ঘটে, তখনই ঘটে বাংলাদেশে স্বতস্ফূর্ত জুলাই আন্দোলন, নেপালে সহিংসতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মতো ঘটনা ঘটে। এরা ব-ন-দু-ককে মনে করে ক্ষমতার সিঁড়ি। কিন্তু এই যন্ত্রই সবকিছু নয়। সবকিছু হচ্ছে জনগণের হাতে। এটা প্রমাণ করতে আর কী কী করতে হবে?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ছেলে-মেয়ে, আত্মীয় স্বজনরা দলে বড় বড় পদ পাবে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে এমপি-মন্ত্রী হয়ে যা ইচ্ছে তাই করবে। বিএনপির ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। বরং দখল, চাঁদাবাজি ও খুন খারাবিতে বাণিজ্যে এ দলটি আরো এগিয়ে। আর জামায়াত-শিবির নিজেদের দোষ, দায় ঢাকতে এখন কৌশল পাল্টে মেধার রাজনীতি করছে। তারা বুঝতে পারছে- সাধারণ মানুষ কী চায়, সেই পথেই হাঁটতে হবে। তারা তাদের কৌশল মতো কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো গোপনে নানা কায়দায় রাজনীতি করে গেছে। বিশেষ করে ডাকসু নির্বাচনে তাদের লক্ষ্য ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন জয় করা। তারা গত এক বছর আগেই সেই মিশনে নেমে শিক্ষার্থীদের সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে।
আর সেই চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে ডাকসুর নির্বাচনে। ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই তাদের প্যানেলের বিপুল বিজয়। ভাবা যায়? তাই গলাবাজি ও সমালোচনা করে রাজপথ ফাটিয়ে দিলে হবে না। মাথায় যদি ইতিবাচক চিন্তা না থাকে। আর এটাই মুক্তপন্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সামনের দিনে অশণি সংকেত। আর বর্তমান বাস্তবতায় তারা স্বার্থ লোভের উর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ গত ৫ আগস্টের পর বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মী ভয়াবহ অপরাধে যুক্ত হয়েছে। সিলেটের শ্বেতপাথর, কোথাও বালু সবকিছু এরই মধ্যে সাবাড় করেছে। কয়েকদিন আগে ঢাকার মালিবাগে একটি বাস কাউন্টারের সামনে ধুমপান করতে নিষেধ করায় মুহূর্তের মধ্যে পরিবহনের মালিকসহ বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আরো কত যে ঘটনা, তা একটু গুগল সার্চ করলেই জানা যাবে। ক্ষমতার আগেই এই অবস্থা। তাহলে ভবিষ্যতে যে তারা কী করবে, সেটা বুঝতে কঠিন ইংরেজি পড়তে হবে না।
আরো পড়তে পারেন- দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা: যাঁর উপদেশগুলো খুব প্রয়োজন
তাহলে কী ঘটতে যাচ্ছে আগামীর রাজনীতিতে? এটা নিয়ে বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত দরকার। কারণ সবাইকে মনে রাখতে হবে, পিরায় বসে পেরোর খবর মিলবে না। চাপাবাজি আর দখল সংঘাত দিয়ে আগামীর রাজনীতির পথ বন্ধ। জামায়াতেরও দেশের অস্থিরতায় অবদান আরও গভীরে। কিন্তু তাদের ওই সব বিষয়ে বলবে কে? বরং জামায়ায়াতের সৃষ্ট বিভিন্ন মববাজিতে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। এতে ফল খেয়েছে জামায়াত আর খোসা নিয়ে সন্তুষ্ট বিএনপি।
বিএনপি বড় দল। কিন্তু বড় মনের হতে পারছে না এতদিনেও। হওয়ার সম্ভাবনাও নাই। আর আওয়ামী লীগের ইতিহাসও সবার জানা। তার ওপর তারা এখন নিষিদ্ধ। তা সুতরাং এখন সমীকরণ মেলানোর পালা।
