বাণীবিতান ডেস্ক।।
খ্রিস্টিয় ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাত বিশ্ববাসীর জন্য এক অন্যরকম অনুভূতির সময়। কারণ ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে শুরু হয় নতুন বছর জানুয়ারি। আর এই জানুয়ারিকে বরণ করতেই থাকে সবার নানা আয়োজন। খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জীর প্রথম মাস জানুয়ারি। এ মাসে মোট ৩১ দিন।
১ জানুয়ারি গোটা বিশ্বে সব বয়সী মানুষ আতশবাজি ছুঁড়ে , ঢাকঢোল পিটিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন নতুন বছরের প্রথম প্রহর উদযাপনে। জানায় স্বাগত।
কিন্তু, কেন পহেলা জানুয়ারি বছরের প্রথম দিন? এই প্রশ্নের জবাব হয়তো আমাদের অনেকের কাছে নেই। যাদের কাছে নেই, তাদের জন্য বাণীবিতান ডটকমের পক্ষ থেকে এবারের আয়োজন।
আগে এক সময় ২৫শে মার্চ, আবার ২৫ ডিসেম্বরসহ বিভিন্ন তারিখে বছরের শুরু ধরা হতো।
এর মূল কারণ ছিল রোমান পেগান উৎসব। কমপক্ষে দুই হাজার বছর আগে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার যে ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকা চালু করেছিলেন তার সূত্র ধরে এ উৎসব উদযাপন করা হতো। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ত্রয়োদশ পোপ গ্রেগরিও।
জানুয়ারি এ মাসটি ছিল প্রাচীন রোমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তখন তাদের দেবতার নাম ছিল জানুস। যাঁকে দ্বিমুখী দেবতা বলা হতো। এই দেবতার আরো একটি নাম ছিল। যেমন- ইয়ানুরিয়াস, ল্যাটিন ভাষায় ইয়ানুরিয়াস’ এর অর্থ জানুয়ারি, তাকে উৎসর্গ করা মাস। ১১ জানুয়ারি জাতীয় মানব পাচার সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
জানুসকে দুটি মুখ দিয়ে চিত্রিত করা হয়েছে। তাকে রূপান্তরের দেবতাও বলা হয়। অর্থাৎ যেকোন পরিবর্তনের শুরু এবং শেষের প্রতীক।
ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডায়ানা স্পেনসার ব্যাখ্যা বলেন, “জানুসের দুটি মুখের একটি সামনের দিকে এবং আরকটি পিছনের দিকে ঘোরানো।”
সামনের মুখটি দিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এবং পেছনের মুখটি অতীতের দিকে ফেরানোকে নির্দেশ করে।
জানুয়ারি বছরের প্রথম মাস হওয়ার পেছনে অতীত এবং ভবিষ্যৎ – উভয় দিকে তাকানোর একটা সম্পর্ক আছে।
“সুতরাং যদি বছরের মধ্যে একটা সময় আসে যখন আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে ‘এটাই আবার শুরু করার সময়’, সেক্ষেত্রে জানুয়ারি প্রথম মাস হওয়াটা যৌক্তিক।” আবার ইউরোপে এটি এমন এক সময় যখন শীতকালের পরের দিনগুলো দীর্ঘ হতে শুরু করে।
মধ্যযুগে, রোমের পতনের পর, খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা দৃঢ়ভাবে দাবি করেন- যে পহেলা জানুয়ারি পেগানদের তারিখ।
অনেক দেশে যেখানে খ্রিস্টধর্মের আধিপত্য ছিল, তারা ২৫শে মার্চকে নতুন বছরের শুরু হিসাবে উদযাপন করতে চেয়েছিল।
কারণ তাদের মতে, সেই দিনটি ছিল যখন দেবদূত গ্যাব্রিয়েল, ভার্জিন মেরির কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন।
জুলিয়াস সিজার দেবতা জানুসের সম্মানে জানুয়ারিকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে চিহ্নিত করে নতুন ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন।
ষোড়শ শতকে, পোপ গ্রেগরি ত্রয়োদশ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন এবং ক্যাথলিক দেশগুলিতে ওই সময় থেকে পহেলা জানুয়ারিকে নতুন বছরের শুরু হিসাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়।
আমরা এখন যে ক্যালেন্ডার অনুসরণ করি বা যেটি ইংরেজি বর্ষপঞ্জি হিসেবে চেনেন অনেকে, সেটাই ‘গ্রেগরিয়ান’ ক্যালেন্ডার।
ইতালি, স্পেন এবং পর্তুগালের মতো ক্যাথলিক দেশগুলো তখন থেকেই এই নতুন ক্যালেন্ডার মেনে চলছে।
(সংক্ষেপিত)
