বিপ্লব রায়।।
সমাজ যখন রসাতলে ডুবে যায়, ঠিক তখন সবখানেই মূর্খদের আধিপত্য বিস্তার হয়। সেখানে বইয়ের কোনো দাম নেই। সদুপদেশ মূল্যহীন। শৃঙ্খলা সেখানে অগ্রহনীয়।
রাশিয়ান লেখক আন্তন চেখভ বলেছেন, ব্যর্থ সমাজে মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞানে জেগে ওঠেনা। সে জেগে ওঠে স্লোগানে। এখানে- পাঠাগার কম থাকে। উপসানালয় বেশী থাকে। যে উপাসনালয়গুলো আবার সপ্তাহের ছয়দিনই খালি পড়ে থাকে। একদিন বা দুদিন অথবা বিশেষ কোনো দিনে সেখানে ভরে ওঠে ভিড়ে।
ব্যর্থ সমাজে চিন্তাশীল মানুষগুলো সব সময় একঘরে থাকে। কবিরা ভোগেন অর্থ সংকটে। কারণ ওই সমাজে কবি সাহিত্যিকদের বোঝার মতো কেই থাকে না। বরং তাদের বিপরীতে হাজার হাজার মূর্খ থাকে। যারা নিরেট মূর্খের চেয়েও মূর্খ। তারা তাদের অন্ধকার মত প্রতিষ্ঠিত করতে সব সময় একট্টা থাকেন। প্রতিটি সচেতন শব্দের বিপরীতে থাকে হাজার হাজার পচনশীল শব্দ। তারা সমস্যার উপরে ভেসে বেড়ায়, কখনো গভীরে প্রবেশ করতে পারেনা।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমাদের সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠই এখন নির্বোধ। তারা বই পড়ে না। বই বোঝে না। তারা সংস্কৃতি মানে না। সুস্থ চিন্তা করে না। তারা বোঝে অদৃশ্য কোনো বস্তু বা স্থানকে। তারা সমাজের অতি তুচ্ছ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনায় মেতে থাকে। সমস্যা সমাধানের চেয়ে একে অন্যের উপর প্রতিনিয়ত দোষ চাপাতে থাকে।
অর্থহীন গান ও সস্তা বিনোদনের পিছনে লক্ষ লক্ষ মানুষ ছুটে। ফলে, সস্তা বিনোদন করেও মানুষ প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এইসব গান, বাদ্য বাজনার মানুষগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
মূর্খ সমাজে রাজনৈতিক নেতাদের দেবতার মতো করে পূজা করা হয়। এক দলের দেবতা অন্য দলকে সহ্য করতে পারেনা। আর এসব কথিত দেবতাদের মিথ্যা কথাগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠরা বিশ্বাস করে দিনের পর দিন। তাদের দ্বারা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবুও ওই ভন্ডরাই তাদের প্রাণের গুরু। আর রাজনৈতিক ওই নেতারা যে কোনো একটা খেলা দিয়ে মানুষকে দিনের পর দিন নেশাগ্রস্থ করে রাখে। কারণ এটাই তাদের বিজনেস।
চিন্তাশীল মানুষের গভীরতা সহজে কেউ বোঝে না। অধিকাংশ মানুষ আজেবাজে কথায় সময় পার করে দেয়। আজে বাজে কথা বলে যে মানুষকে হাসায়, তার চেয়ে কঠিন সত্য বলে যে বাস্তবতাকে জাগিয়ে তোলে তাকে কেউ গ্রহণ করেনা।
অজ্ঞ সংখ্যাগরিষ্ঠরা এখানে সবার ভাগ্য নির্ধারণ করে। এভাবেই চলছে। আর এসব নষ্টামির জন্য রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার সবাই দায়ী। কারণ অন্ধকার দ্রুত এগিয়ে গেছে। আলোর মশালধারী কেউ সেভাবে এগিয়ে যায়নি অন্ধকারকে হারাতে।
এই অসভ্যতার পিরামিড ভাঙতে হবে। জাগিয়ে তুলতে হবে হাজার তারার প্রদীপ। আলোকিত করতে হবে এই পৃথিবী। হয়তো সে পথের গন্তব্য বহু দূ….রে ! তবুও শুরু হোক পথচলা।
