
বাণীবিতান ডেস্ক।।
ছোটবেলায় শিখেছি বিনয়, নম্রতা আর ত্যাগ—এগুলো ভালো মানুষের লক্ষণ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এখন প্রয়োজন শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব। আর সেই শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব তৈরি হয় আঘাত থেকে। কাছের মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যান আর কঠিন বাস্তবতা থেকে। সময় বদলেছে। তাই ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা ছেড়ে প্রভাবশালী হওয়ার খেলাটা শিখুন।
এখানে কয়েকটি কৌশল যা আপনার ভেতরের আগুনকে উস্কে দেবে:
১. আপনি যত বেশি নরম হবেন, মানুষ তত বেশি আপনাকে ভাঙার সুযোগ খুঁজবে। দয়া দেখান, কিন্তু সেটা হবে আপনার নিয়ন্ত্রিত একটি কৌশল। স্বভাব নয়। প্রশ্ন হলো, সবার কাছে ভালো সাজার এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে কবে বের হবেন? নাকি ভাঙা কাঁচের মতো সারা জীবন পড়ে থাকতে চান?
২. সহজে ক্ষমা করার অর্থ হচ্ছে আপনাকে আবার আঘাত করার লাইসেন্স দেওয়া।
মনে রাখবেন, যে একবার আপনার বিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছে, সে বারবার খেলবে। ক্ষমা মহান হতে পারে, কিন্তু আত্মসম্মানের প্রশ্নে নয়। বিশ্বাসঘাতককে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া আর নিজের হাতে নিজের কবরে মাটি দেওয়া একই কথা। আপনি কি সত্যিই ভাবেন যে মানুষ বদলায়, নাকি তারা শুধু অভিনয়টা আরও নিখুঁত করে?
৩. আপনার পরিকল্পনা আর দুর্বলতা হলো আপনার পারমাণবিক বোমা। এটি সবার সামনে প্রদর্শন করা সবচেয়ে বড় ভুল।
যত কম মানুষ আপনার সম্পর্কে জানবে, আপনার আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা তত কম। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নিজের দুর্বলতা—এগুলো শুধু নিজের কাছে রাখুন।
৪. সবার কাছে প্রিয়পাত্র হওয়ার লোভ ত্যাগ করুন। সম্মান আদায় করতে শিখুন।
ইতিহাসে যারা পৃথিবীতে পরিবর্তন এনেছে, তাদের বন্ধুর চেয়ে শত্রু বেশি ছিল। যদি সবাই আপনাকে পছন্দ করে, তার মানে আপনি জীবনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানই নেননি। আপনি কি মেষের পালে মিশে যেতে চান, নাকি একাই সিংহের মতো শাসন করতে চান?
৫.”না” বলতে শিখুন
অন্যের অনুভূতির দায় আপনার নয়। আপনি যদি নিজের সময় আর শক্তিকে মূল্য না দেন, তবে অন্য কেউ দেবে না। প্রতিটি ‘হ্যাঁ’ বলার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, এর বিনিময়ে আপনি কী হারাচ্ছেন? অন্যের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে নিজের স্বপ্নকে হত্যা করা কি বুদ্ধিমত্তা?
৬. তর্কে জিততে যাবেন না, তর্ককে অপ্রাসঙ্গিক বানিয়ে দিন।
সবার সাথে তর্ক করে নিজের শক্তি ক্ষয় করবেন না। আপনার নীরবতা আর উপেক্ষা হবে আপনার সবচেয়ে বড় জবাব। যখন কেউ আপনাকে তর্কে হারাতে চায়, তাকে তার মানসিক দেউলিয়াপনার সাথে একা ছেড়ে দিন। আপনি কি জানেন, কিছু মানুষের সাথে তর্ক করা আর দেয়ালে মাথা ঠোকা সমান?
চিন্তা করুন-
আপনার ব্যক্তিত্ব কি অন্যের চোখে আপনার প্রতিচ্ছবি, নাকি আপনার নিজের হাতে গড়া এক দুর্ভেদ্য দুর্গ?
এই প্রশ্নের উত্তরটা আপনার ভেতরকেই নতুন করে চিনতে সাহায্য করবে।
