
তোমার জন্য ভাবি না
তুমি তোমার ছেলেকে
অহোরাত্রি অসংখ্য মিথ্যার বিষ গলিয়েছ।
শৈশবে সে হাসেনি,
কেননা
সমবয়সীদের সে শত্রু বলে জানত।
যৌবনে সে নারীকে ভালোবাসেনি,
কেননা
নারীকে সে নরক বলে জানে।
ধীরে-ধীরে সেই অকালবার্ধক্যের দিকে সে এখন
এগিয়ে যাচ্ছে,
চুলগুলিকে যা সাদা করে দেয়,
কিন্তু চিত্তের মালিন্য যা মোচন করতে পারে না।
তোমার জন্য আমার কোনো ভাবনা নেই,
কিন্তু তোমার ছেলের জন্য আমার বড় দুঃখ হয়।
তুমি তোমার মেয়েকে
অহোরাত্রি অসংখ্য কুৎসার কালি
গিলিয়েছ।
শৈশবে সে ফুল কুড়ায়নি,
কেননা সে শুনেছিল
প্রত্যেকটা গাছেই আছে একানড়ের বাসা।
যৌবনে তার জানলা দিয়ে বাতাস বয়ে যায়নি,
কেননা
প্রতিবেশীর পুত্রকে সে লম্পট বলে জানে।
ধীরে-ধীরে সে এখন সেইদিকে এগিয়ে যাচ্ছে,
যেখানে
দুপুরগুলি বিকেলের মতো বিষণ্ণ তার
বিকেলগুলি রাত্রির মতো অন্ধকার।
তোমার জন্য আমার কোনো ভাবনা নেই,
কিন্তু তোমার মেয়ের জন্য আমার বড় দুঃখ হয়।
পড়তে পারেন শুভ দাশগুপ্তের কবিতা: আমি সেই মেয়ে
কবির জীবন সম্পর্কে কিছু কথা: কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী একজন ভারতীয় বাঙালি কবি। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে যে ক’জন আধুনিক বাংলা কবি আবির্ভূত হয়েছেন, তাদের মধ্যে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী অন্যতম। মাত্র ৫ বছর বয়স থেকেই কবিতা লেখা শুরু করেন তিনি। যদিও সেই কবিতা কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি। এরপর ১৬ বছর বয়স থেকে নীরেন্দ্রনাথের লেখা কবিতাগুলো প্রকাশিত হতে থাকে বিভিন্ন পত্রিকায়।
কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জন্ম ১৯২৪ সালের ১৯ অক্টোবর। ফরিদপুর জেলার চান্দ্রা গ্রামে। কবি নীরেন্দ্রনাথের প্রাথমিক লেখাপড়া ফরিদপুরের পাঠশালায়। পরে ঠাকুরদা মারা যাওয়ার পর গ্রাম ছেড়ে ১৯৩০ সালে কলকাতায় চলে যান। সেখানে গিয়ে প্রথমে কলকাতার বঙ্গবাসী স্কুলে এবং পরে মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে “প্রবেশিকা পরীক্ষা”য় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গবাসী কলেজ থেকে আই. এ. পাশ করেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে সেন্ট পলস্ কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্স নিয়ে বি. এ. পাশ করেন তিনি। ওই সময়েই ছাত্র অবস্থায় “শ্রীহর্ষ” পত্রিকার সম্পাদনা করে সংবাদপত্রের প্রতি তাঁর নিবিড় ও গভীর অনুরাগের সূত্রপাত হয়।

Pingback: এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না- নবারুণ ভট্টাচার্য – বানী বিতান – Bani Bitan – আঁধার ভেঙে আলোর পথে